ইমানুল সোহান ইসলামী বিশ্ব বিদ্যালয় সংবাদদাতাঃ
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ব বিদ্যালয়ে নিরাপত্তা লেক ভরাট করে রাস্তা করতে যাচ্ছে প্রশাসন।
ফলে আবাসিক এলাকাসহ ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা অবনতি হবার আশঙ্কা করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ব বিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের জন্য ক্যাম্পাসের দেয়াল ভেঙ্গে এই রাস্তা করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে ক্যাম্পাসে প্রবেশের জন্য তিনটি গেট রয়েছে। মূল গেটের সাথে আরো দুটি গেট রয়েছে। এর মধ্যে মেইন গেটে আনসার সদস্য থাকলেও, অন্য দুই গেটে কোনো আনসার সদস্য থাকে না। ফলে ওই দুই গেট দিয়ে হরহামেশেই বহিরাগতরা প্রবেশ করে। যার কারণে অরক্ষিত হয়ে পড়ছে ক্যাম্পাস। অনিরাপ্তার মধ্যেই আবারো নতুন করে রাস্তা তৈরী করছে প্রশাসন। খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের পাশ ঘেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীরের মাঝে নিরাপত্তা লেক ভরাট করে রাস্তা তৈরীর কাজ ইতমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এতে ওই দেয়াল ভেঙ্গে গেট করা হবে। এতে স্কুল এবং পাশ্ববর্তী আবাসিক এলাকার নিরাপত্তার ঘাটতি দেখা দেবে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও আবাসিক শিক্ষকরা। নতুন রাস্তা করলে অনিয়ন্ত্রিত যাতায়াতের ফলে ক্যাম্পাসে অপরাধ কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান তারা। স্কুলে এবং আবাসিক এলাকায় যাবার জন্য দ্বিতীয় প্রশাসন ভবন সংলগ্ন বড় গেট (৩ নং গেট) থাকলেও সবসময়ই তা বন্ধ রাখা হয়। আনসার নিয়োগ দিয়ে ওই গেট চালু রাখলে বিকল্প কোন রাস্তার প্রয়োজন হবেনা বলে জানান সিনিয়র এক প্রকৌশলী। সম্প্রতি ক্যাম্পাসে মাদকের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ওই সড়ক ও গেট ব্যবহার করে ক্যাম্পাসে অবাধে বিচরণ করার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও সড়ক দুঘটনার শঙ্কার কথাও বলছে তারা। কারণ স্কুলের শিক্ষার্থীরা কমবয়সী হওয়ায় যে কোন সময় রাস্তায় চলে যেতে পারে। সম্প্রতি বহিরাগতরা মাদক সেবন, অনৈতিক কাজ ও বাইক রেসলিংয়ের কাজে ক্যাম্পাসকে ব্যবহার করছে। গত শুক্রবার বহিরাগতরা ক্যাম্পাসের রাস্তায় বাইকি রেসলিংয়ের প্রতিযোগিতায় নামে। যার ফলে শিক্ষার্থীরা দূর্ঘটনার আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করছে। এছাড়াও গত ১০ নভেম্বর বহিরাগত প্রেমিক যুগলকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করা হয়। এসব অনৈতিক কর্মকান্ড করার জন্য তারা ক্যাম্পাসের থানা গেট ব্যবহার করছে। এসব সমস্যার মাঝেও প্রশাসন নিরিবিলি ওই এলাকায় চতুর্থ রাস্তা করতে যাচ্ছে। যার ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস অরক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছে।এ বিষয়ে আইন বিভাগের প্রফেসর ড. শাহজাহান মন্ডল আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘এখানে ক্যাম্পাসের গেট হওয়ার প্রয়োজন নেই। গেটটি হলে স্কুলের শিশুরা দুর্ঘনটার স্বীকার হতে পারে। সাথে আবাসিক এলাকাসহ গোটা ক্যাম্পাস অরক্ষিত হয়ে যাবে।এব্যপারে প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আলিমুজ্জামান টুটুল বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা দেয়াল টপকে স্কুলে আসে। তাই ওই দিক দিয়ে পকেট গেট করার জন্য রাস্তা তৈরী করা হচ্ছে।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/০৪ ডিসেম্বর ২০১৮/ইকবাল